Icon to view photos in full screen

“আমার মা আমার দেখাশোনা করেন এবং আমাকে খাওয়ান। আমি কথা বলতে পারি না, তাই আমার কোনো বন্ধু নেই।”

কোনো শিশু যদি শুনতে পায় কিন্তু কথা বলতে না পারে, তাহলে শহরের কোনো মধ্যবিত্ত পরিবারের বাবা-মা স্বাভাবিকভাবেই শহরের স্পিচ থেরাপিস্টদের ফোন নম্বর খুঁজবেন। কিন্তু যদি সেই শিশুটি গুজরাটের ছোটাউদেপুর জেলার ধান্ধোদা গ্রামের রাঠওয়া উপজাতির দিনমজুর কৃষিশ্রমিক পরিবারে জন্মায়, যে গ্রামের জনসংখ্যা ৩,০০০-এর সামান্য বেশি I

ভীমসিংভাই (৪৫) এবং মঞ্জুলাবেন (৪০)-এর আগে একটি ছেলে ছিল, পারসিংভাই। প্রায় ১৬ বছর আগে তাঁদের দ্বিতীয় ছেলে অক্ষয় কুমার জন্মগ্রহণ করে। দম্পতিটির কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। এমনকি তাঁরা আমাদের সাক্ষাৎকারগ্রহণকারীকে অক্ষয়ের জন্মতারিখও বলতে পারেননি। জিলা পঞ্চায়েত অফিসে কর্মরত অক্ষয়ের খুড়তুতো ভাই মেহুলের কাছ থেকে আমরা অক্ষয় সম্পর্কে সামান্য কিছু তথ্য জানতে পেরেছিলাম।

ভীমসিংহ ও মঞ্জুলা যখন বুঝতে পারলেন যে অক্ষয় কথা বলতে পারে না এবং তার চলাফেরাতেও সমস্যা রয়েছে, তখন তাঁরা কী করবেন তা বুঝতে পারেননি। মেহুলের কাছ থেকে জানা যায়, বরোদার সরকারি হাসপাতাল, এসএসজি স্যার সায়াজিরাও জেনারেল হাসপাতালে অক্ষয়ের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতা (intellectual disability) শনাক্ত করা হয়েছিল। তার চলাফেরাতেও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বলে মনে হয়। কারণ মঞ্জুলা এখনও তাকে খাওয়ানো, স্নান করানো এবং পোশাক পরিয়ে দেওয়ার মতো দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজে সাহায্য করেন। তাঁর ৭১ বছর বয়সী দাদি কেশালিবেনই বাড়ির একমাত্র অন্য সদস্য। তাঁরা যেন ছেলেটির ব্যাপারে আশা ছেড়ে দিয়েছেন, কারণ সে “কথা বলতে বা বুঝতে পারে না”।

কুলসিং চুনিয়া একজন বিশেষ শিক্ষাবিদ। তিনি সাহায্যপ্রাপ্ত বেসরকারি, গুজরাটি-মাধ্যম, সহশিক্ষা বিদ্যালয় শ্রী পি. এল. মাকওয়ানা সার্বজনিক হাই স্কুলে কাজ করেন। তিনিই ভিকি রয়কে ওই অঞ্চলের অক্ষয় এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধী শিশুদের ছবি তুলতে নিয়ে গিয়েছিলেন। কুলসিং আমাদের জানান যে অক্ষয় এই স্কুলের নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। সে যেহেতু স্পষ্টতই তার মা অথবা কোনো সহায়ক ব্যক্তিকে ছাড়া সারাদিন স্কুলে বসে থাকতে পারবে না, তাই কুলসিং সপ্তাহে দু’দিন তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পড়ান।
কুলসিং জানালেন, “অক্ষয় এখন নিজের পোশাক পরতে পারে, তবে কখনও কখনও বোতামগুলো সঠিক বোতামঘরে লাগাতে পারে না। সে দাঁতও মাজতে পারে, কিন্তু টুথপেস্ট লাগাতে সাহায্য দরকার হয়।”

মেহুলের মতে, “অক্ষয় খুশি হলে হাসে, কিন্তু আর কিছুই যোগাযোগ করতে পারে না। তাই তার কোনো বন্ধু নেই এবং সে কোনো খেলাও খেলে না।”
আমরা ভাবি, অক্ষয়ের মনের মধ্যে কী ঘটে। কারণ নিশ্চয়ই তার মস্তিষ্কও সক্রিয়ভাবে কাজ করে, যদিও আমাদের বাকিদের তুলনায় হয়তো ভিন্ন গতিতে।
 

ছবি:

ভিকি রয়