Icon to view photos in full screen

“আমি মানুষদের সঙ্গে দেখা করে আর ক্রিসমাসের জন্য খেলনা পেয়ে আনন্দিত হই।”

সোহখোটিনলেন হাওকিপ (৩১) মানুষের কাছাকাছি থাকতে উপভোগ করে। মণিপুরের চান্দেল জেলার ওয়াই থিংকাংফাইয়ের রাস্তাগুলিতে সে যখন হামাগুড়ি দিয়ে চলে তখন গ্রামের লোকেরা তাকে খেপায়, “আরে সোহখো, তোমার বান্ধবী কে?” সে বুঝতে পারে না যে তারা ওকে উপহাস করছে, কারণ সরকারি প্রমানপত্র অনুযায়ী তার ‘নব্বই শতাংশ (৯০%) বিকলাঙ্গতা সহ গুরুতর মানসিক প্রতিবন্ধকতা’ রয়েছে। সে তাদের সঙ্গে হেসে ওঠে, স্পষ্টতই লাজুক ও উদ্দীপ্ত দেখায় তাকে।
 
           জল, গরু, বিড়াল, চার্চ—এইরকম কিছু বিক্ষিপ্ত শব্দচ্চারণের মধ্যেই সোহখোর বুলি সীমাবদ্ধ। সে কখনো নিজের যত্ন নিতে সক্ষম হয়নি; এখনও তার মা এবং বড় ভাই তাকে খাওয়ায়, স্নান করায় আর তার শৌচের যাবতীয় প্রয়োজনগুলির ব্যবস্থা করে। আমরা তার ব্যক্তিগত খুঁটিনাটি শিশু সারথির গবেষণা-সহযোগী লুনহাওলাল কুকির মাধ্যমে সংগ্রহ করেছি, যার বাবা-মা হাওকিপসের প্রতিবেশী। লুন হাওকিপ দম্পতির সঙ্গে কথা বলেছেন, যারা কেবল থাডৌ কুকিতে বলেন; তিনিও সোহখোকে মনোযোগ সহকারে লক্ষ্য করেছেন।
 
           উপজাতির অন্তর্ভুক্ত হাওকিপস ২০১৮ সালে ওয়াই থিংকাংফাইতে চলে আসে। স্থানীয় গোষ্ঠীর সর্দার তাদের একটি জমি দিয়েছিল যেখানে তারা বাস করবে আর চাষাবাদ করবে। হেলখোথাং এবং ডিমখোনেং হাওকিপ (দুজনেই ৬৫) উভয়েই ধান চাষ করেন এবং সরকারের এমএনআরইজিএ সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পের সুবিধা নেন। অফ মরসুমে মিস্টার হাওকিপ খণ্ডকালীন যাজকরূপে ৫০০ টাকা আয় করেন। সেন্টার ফর কমিউনিটি ইনিশিয়েটিভ (সিসিআই) আমাদের দলটিকে ৭০ কিমি দূরে এই দুর্গম গ্রামে নিয়ে গেছে।
 
           ভিন্ন পরিবেশে নিজেকে কল্পনা করা সোহখোর কাছে রোমাঞ্চকর ব্যাপার। সোহখো এমন একজন যার সঠিক সময়ে সঠিক রোগ নির্ণয় হয়েছে আর যে সঠিক পুঁজির সহায়তা পেয়েছে। ডিএস শৈশবকালে শনাক্ত করা যায় কিন্তু শুধুমাত্র উন্নত মানের হাসপাতালেই, সোহখোর জন্মস্থানে যা কেবল স্বপ্নই। পাঁচ বছর বয়সের পরে সে আর হাঁটতে পারেনি। এটা কি ডিএসের জন্য না কি অন্য কোনও মেডিকেল অবস্থার জন্য? বহুবছর পরে কেউ স্ব-চালিত হুইলচেয়ারে দান করেছিলেন, যা কিনা গ্রামের কাঁচা অসম রাস্তায় চালানো অসম্ভব, তাই সে চারপেয়েই হয়ে গেল।
 
           তার জেলায় কোনও এনজিও ছিল না, কোনও বিশেষ স্কুল ছিল না, এমন কিছুই ছিল না যেখান থেকে সে উপযুক্ত চাকরির জন্য পেশাগত শিক্ষা ও দক্ষ প্রশিক্ষণ নিতে পারে। তাকে একটি বোর্ডিং স্কুলে পাঠানো হয়েছিল— কাংপোকপি জেলার মাংওয়া স্কুল বিকলাঙ্গদের জন্য— যেখানে সে মাত্র দুই বছর ছিল কারণ ‘সে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল এবং আমাদের আর্থিক সঙ্কট ছিল’, তার বাবা বলেছিলেন।
 
           সোহখো, তার পরিবারের ভালোবাসায় সুরক্ষিত, সে অন্যের বাড়ির টিভিতে কার্টুন দেখে এবং বছরে দুইবার-- ক্রিসমাস ও নতুন বছরে চার্চে যায়। কিন্তু সোহখোর মনে কি চলে? কি তাকে সুখী, দুঃখী, রাগী বা ভীত করে তোলে? আমরা হয়তো কখনোই জানতে পারব না।
 
 


ছবি:

ভিকি রয়

ভিডিয়ো:

চন্দন গোমস